পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে একটি জীবিত বিপন্ন প্রজাতির অলিভ রিডলি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবূর(১৬ মে) সকাল ১১ টায় জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে ডিসি পার্ক সংলগ্ন সৈকতে কচ্ছপটি দেখতে পান ফটোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম।এই কচ্ছপটি দেখতে সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। অনেকেই এত বড় কচ্ছপ কাছ থেকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং কচ্ছপটিকে দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে পুনরায় সমুদ্রে অবমুক্ত করার দাবি জানান।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপরা যুগ্ম আহবায়ক আবুল হোসেন রাজু জানান, অলিভ রিডলি কচ্ছপ, ডলফিন ও তিমিসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী প্রায়ই জীবিত, আহত কিংবা মৃত অবস্থায় উপকূলের বিভিন্ন সৈকতে ভেসে আসে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তারা মৃত সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ময়নাতদন্তের দাবি জানান।
স্বেচ্ছাসেবীদের মতে, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটি বিপন্ন প্রজাতির অলিভ রিডলি। এর শারীরিক সমস্যার কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ হলে পুনরায় গভীর সমুদ্রে অবমুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশন ( বিবিসিএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম বাচ্চু বলেন,সরকারকে আহবান করেও কচ্ছপ ও ডলফিনের মৃত্যুর কারণগুলো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তাই জেলেদের সচেতনতা বেশী দরকার। পরিবেশ রক্ষার জন্য মৃত এসকল সামুদ্রিক প্রানী গুলোকে মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে তবে যদি মিউজিয়াম সিস্টেম করে রাখা হয়, তাহলে পর্যটকরা ঘুরতে এসে এগুলো দেখতে পারবে।
কুয়াকাটা বন বিভাগের ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হোসেন বলেন,কচ্ছপটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সমস্যার কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুস্থ হয়ে উঠলে দ্রুত সমুদ্রে অবমুক্ত করা হবে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় সমুদ্রের পানিতে ১৭৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর সমুদ্রের তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলের কচ্ছপের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়, যা তাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত আট বছরে এই উপকূলীয় এলাকায় অন্তত ৩০টি কচ্ছপের মৃত্যু ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো বৈজ্ঞানিক ময়নাতদন্ত হয়নি। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে কচ্ছপের জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য গড়ে তোলা না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব ভবিষ্যতে গুরুতর হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এইমাত্র পাওয়াঃ
আজকের শিরোনামঃ











