পটুয়াখালীর মহিপুর উপকূলে মাছ ধরার একটি বোট ঘিরে হামলা, জেলেদের মারধর এবং ইলিশসহ প্রায় ১১ লাখ টাকার মাছ ও জাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার
(৫ সেপ্টেম্বর) মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বোটটির মালিক দেলোয়ার হোসেন (৩৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ‘এফবি শাহ আমানত-২৯’ নামের মাছ ধরার বোটটি গত ১লা সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে মহিপুর বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যায়। ৩ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে পায়রা বন্দরের পশ্চিম-দক্ষিণ এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকটি মাছ ধরার বোট তাদের বোটটি ঘিরে ফেলে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এফবি নুসরাত, এফবি আল্লাহর দান, এফবি মায়ের ছোয়া, এফ বি নং ১০৭০ মংলাসহ আরও দুটি অজ্ঞাতনামা বোট থেকে লোকজন বোটটিতে উঠে জেলেদের মারধর করে। এ সময় বোটে থাকা আনুমানিক ১০০ ক্যারেট ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা, এবং দুটি মাছ ধরার জাল, যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা, নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন বোট মালিক।
লুটপাটে বাধা দেওয়ায় বোটে থাকা দুই জেলেকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় আরেকটি বোট এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা লুট করা মালামাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়।
পরে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত শাহ আমানত-২৯ বোটটি মহিপুর বন্দরে ফিরে আসে। আহত দুই জেলেকে মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন অভিযুক্ত বোটগুলোর মালিক/সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জেলেরা মনে করছেন কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশের টহল না থাকায় এসকল ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। জেলেদের দাবি কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ নিয়মিতভাবে টহল দিলে তারা নিরাপদে মাছ শিকার করতে পারবে।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মজনু জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই সমুদ্রে জলদস্যুদের উপস্থিতি ছিলো না তবে সাম্প্রতিক সময়ে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং সমুদ্রে নৌ টহল জোরদারের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডের নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শহীদুল্লাহ বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত সমুদ্রে টহল দিয়ে যাচ্ছি।যদি তাৎক্ষণিক আমাদের জেলেরা জানায় তাহলে আমরা সঠিক ভাবে জলদস্যুদের ধরতে পারি। তাছাড়া জেলেরা ৯৯৯ সহযোগীতাও নিতে পারে। কোস্টগার্ড সমুদ্র ও জেলেদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাড়ির অফিসার ইনচার্জ নয়ন তারকুন বলেন, বিষয়টি আমরা মাত্রই জেনেছি। আমরা খোজ খবর নিচ্ছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এইমাত্র পাওয়াঃ
আজকের শিরোনামঃ
বঙ্গপসাগরে মাছ ধরা ট্রলারে ডাকাতি, ইলিশসহ ১১ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
জনপ্রিয় সংবাদ










