ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo মহিপুরে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, পলাতক ১ Logo মহিপুরে ২১ পিস ইয়াবা ও ১৬ মামলার পলাতক আসামী চিহ্নিত মাদক কারবারি মাসুদ রানা গ্রেফতার Logo বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ভাই-বোনদের হয়রানির অভিযোগে মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন Logo বঙ্গপসাগরে মাছ ধরা ট্রলারে ডাকাতি, ইলিশসহ ১১ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ Logo কলাপাড়ায় ম্যাক্স হাসপাতালে থেরাপি দিতে গিয়ে নবজাতকের পা ভাঙার অভিযোগ। Logo মহিপুরে নানা কর্মসূচির বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo কুয়াকাটায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তোলার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে Logo মহিপুরে কারিতাসের ‘একরাব’ প্রকল্পের আওতায় নারী কৃষকদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ। Logo কুয়াকাটায় ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, মামলা দায়ের Logo মহিপুরে ৪ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সেকান্দার নামক একজন গ্রেপ্তার
আজকের শিরোনামঃ
Logo মহিপুরে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, পলাতক ১ Logo মহিপুরে ২১ পিস ইয়াবা ও ১৬ মামলার পলাতক আসামী চিহ্নিত মাদক কারবারি মাসুদ রানা গ্রেফতার Logo বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ভাই-বোনদের হয়রানির অভিযোগে মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন Logo বঙ্গপসাগরে মাছ ধরা ট্রলারে ডাকাতি, ইলিশসহ ১১ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ Logo কলাপাড়ায় ম্যাক্স হাসপাতালে থেরাপি দিতে গিয়ে নবজাতকের পা ভাঙার অভিযোগ। Logo মহিপুরে নানা কর্মসূচির বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo কুয়াকাটায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তোলার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে Logo মহিপুরে কারিতাসের ‘একরাব’ প্রকল্পের আওতায় নারী কৃষকদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ। Logo কুয়াকাটায় ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, মামলা দায়ের Logo মহিপুরে ৪ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সেকান্দার নামক একজন গ্রেপ্তার

কুয়াকাটায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তোলার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে

  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৬৯ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার। দীর্ঘদিন একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট পাঁচজন শিক্ষক পদায়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম মনির একাধিকবার উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

স্থানীয় অভিভাবক ইসাহাক হাওলাদার বলেন, “একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এদিকে, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই শিক্ষিকার অনুপস্থিতির পেছনে অনুমোদিত ছুটি, ডেপুটেশন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনো বৈধ কারণ রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ বলেন, “আমি ডেপুটেশন ছুটিতে রয়েছি। তবে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করতে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম বলেন, “সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী তিনি এক বছরের ডেপুটেশনে ছিলেন। গত ১১ আগস্ট ওই পরিপত্র বাতিল করে তাকে নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো যোগদান করেননি, যা অবশ্যই এটা নিয়মবহির্ভূত। আমরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ করিম বলেন, “এ বিষয়ে আমি জানতাম না, আপনার কাছ থেকেই অবগত হলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে শিক্ষিকার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণ, ছুটির বৈধতা, বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

মহিপুরে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, পলাতক ১

কুয়াকাটায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তোলার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার। দীর্ঘদিন একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট পাঁচজন শিক্ষক পদায়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম মনির একাধিকবার উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

স্থানীয় অভিভাবক ইসাহাক হাওলাদার বলেন, “একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এদিকে, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই শিক্ষিকার অনুপস্থিতির পেছনে অনুমোদিত ছুটি, ডেপুটেশন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনো বৈধ কারণ রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ বলেন, “আমি ডেপুটেশন ছুটিতে রয়েছি। তবে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করতে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম বলেন, “সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী তিনি এক বছরের ডেপুটেশনে ছিলেন। গত ১১ আগস্ট ওই পরিপত্র বাতিল করে তাকে নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো যোগদান করেননি, যা অবশ্যই এটা নিয়মবহির্ভূত। আমরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ করিম বলেন, “এ বিষয়ে আমি জানতাম না, আপনার কাছ থেকেই অবগত হলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে শিক্ষিকার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণ, ছুটির বৈধতা, বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।