পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী দলীয় পদ ও সকল ধরনের রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর নিজের নৈতিক অবস্থান থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
কুয়াকাটা টাইমস২৪-কে মোঃ খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী জানান, তিনি সর্বদা ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু কেন্দ্রীয় ও উচ্চপদস্থ নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তাঁর নজরে এসেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড তাঁর ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
বিবৃতিতে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তাঁর এই লেখায় ইচ্ছাকৃতভাবেই “ইসলাম” শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কেবল নামের সঙ্গে “ইসলাম” যুক্ত করলেই প্রকৃত অর্থে ইসলামের আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ভর করে তার কর্ম ও চরিত্রের ওপর। পরিশেষে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলায় তাঁর কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এ বিষয়ে মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি বলেন, “৫ আগস্টের পর খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয় এবং এরপর থেকে তিনি দুই-তিন মাস আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি আর কোনো কর্মসূচিতে আসেননি এবং কোনো যোগাযোগও রাখেননি।”
তিনি আরও দাবি করেন, খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জমিজমা নিয়ে অন্য একজনের সঙ্গে বিরোধ ছিল, যা সালিশ-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া একজনের কাছে তাঁর পাওনা তিন লাখ টাকা আদায়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব না নেওয়ায় তিনি নিজেই দল থেকে দূরত্ব বজায় করে চলছেন। তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি জানান, খলিলুর রহমান দাপ্তরিক বা লিখিতভাবে তাঁদের কাছে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের দায়িত্বশীলরা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।










