পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১১ নম্বর ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল গাজীর বিরুদ্ধে জেলেদের সরকারি সহায়তার চাল আত্মসাৎ ও বঞ্চিত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অসহায় জেলেদের ওপর মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কার্ডধারী জেলে আবুল বশার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রাপ্য চালের জন্য ইউপি সদস্যের কাছে গেলে তাকে সহযোগিতার পরিবর্তে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মো. শাহ আলম খানের অভিযোগ, তার পরিবারে চারজন জেলে থাকা সত্ত্বেও কেউ সরকারি সহায়তা পান না। বরং ২০২২ সালে কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার ছেলের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই ইউপি সদস্য। আজও সেই কার্ডের দেখা মেলেনি।
সাফিয়া বেগম নামের এক নারী জেলে জানান, তার স্বামীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও সহায়তা চাইতে গেলে ইউপি সদস্য তাকে চরম দুর্ব্যবহার করে ফিরিয়ে দেন। অভিযোগ তুললে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য বাবুল গাজী বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। একটি কুচক্রী মহল আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।” অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “কেউ প্রমাণ দিতে পারলে আমি যেকোনো শাস্তির জন্য প্রস্তুত।”
বিষয়টি নিয়ে ১১ নম্বর ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল উল্লাহ জিহাদী জানান, “একজন ভুক্তভোগী নারী আমার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” চাল বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই জেলেদের চাল দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জেলেরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে সরকারি সহায়তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে জেলে পরিবারগুলো অমানবিক কষ্টে দিনাতিপাত করবে।
একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রান্তিক জেলেদের জীবিকা যেখানে সরকারি সহায়তার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেখানে কার্ড বাণিজ্য বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে। স্থানীয় প্রশাসন কত দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।















