পর্যটন নগরী কুয়াকাটার প্রবেশদ্বার আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কটি এখন যেন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। সড়কের ভয়াবহ সংকীর্ণতা, অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের হিড়িকের কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এই পথ দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণসহ কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
সরেজমিনে ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার শেষ প্রান্ত থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সরু। বর্তমানে পর্যটন শিল্পের প্রসারের ফলে এই সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু সেই অনুপাতে সড়কের উন্নয়ন না হওয়ায় এবং ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে এলাকাবাসী দায়ী করছেন বেপরোয়া গতি, মদ্যপান বা মাদকাসক্ত অবস্থায় যানবাহন চালানো এবং অদক্ষ চালক বা হেলপারদের মাধ্যমে গাড়ি পরিচালনাকে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চালকদের এই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবই অকালে কেড়ে নিচ্ছে বহু তাজা প্রাণ।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি। সড়কের বর্তমান অবস্থা ও বেপরোয়া গাড়ি চালনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা না হলে দুর্ঘটনার মিছিল থামানো সম্ভব নয়।”
দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয়দের দাবি…
১.দ্রুত সময়ের মধ্যে আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ সম্পন্ন করা।
২.সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ট্রাফিক পুলিশের টহল জোরদার করা।
৪.ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্ন এবং জনবহুল এলাকায় স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা।
৫.পরিবহণ শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করা।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
















