পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ আপন ছোট ভাইকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদারের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১টার দিকে মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কোরবানির দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বড় ভাই খোকন সরদারের নির্দেশে ছোট ভাই আউয়াল সরদার তাউয়াব সরদারের বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাউয়াব তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে আউয়ালকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তার নাক ফেটে রক্তাক্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
আহত আউয়াল সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু বিনিময়ে জুটল মারধর। তাউয়াব আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং অতর্কিত নাকে ঘুষি মারে। তার এই অমানবিক আচরণের বিচার চাই। আমি অচিরেই আইনের আশ্রয় নেব।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাউয়াব সরদার দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সালিশি বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। তার এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ।
সংগঠন ও প্রশাসনের অবস্থান
অভিযুক্ত তাউয়াব সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে মহিপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজান প্যাদা বলেন, “রাজনৈতিক পদ কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার দেয় না। অভিযোগের সত্যতা মিললে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









