পটুয়াখালীর লতাচাপলী ইউনিয়নে এক বৃদ্ধ ও তার পরিবারের ওপর অমানুষিক নির্যাতন এবং সিসি ক্যামেরা চুরির পর প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ইমরান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন পশ্চিম আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় দেড় মাস আগে জয়নাল আবেদীনের ওপর বর্বর হামলা চালায় প্রতিবেশী আমির হোসেন ও তার ছেলে ছাত্রদল নেতা ইমরান। ওই সময় ইট দিয়ে পিটিয়ে বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীনের পা থেঁতলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুয়াকাটা ও পরে কলাপাড়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বাড়ি ফেরার পরও প্রভাবশালী ওই চক্রের অত্যাচার বন্ধ হয়নি। নিজেদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির সামনে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে পরিবারটি। কিন্তু অপরাধ ঢাকতে গত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সিসি ক্যামেরাটি ভেঙে নিয়ে যায় ইমরান ও তার চাচাতো ভাই। একই সাথে বাথরুমের বেশ কয়েকটি লাইটের বাল্বও চুরি করে তারা।
মুখ লুকাতে ইমরান তার ছোট বোনের একটি হিজাব পরে এসেছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; সিসি ক্যামেরাটি ভাঙার ঠিক আগমুহূর্তের একটি স্থিরচিত্র মোবাইল অ্যাপে সংরক্ষিত থেকে যায়। সেই হিজাব পরা ছবির সাথে ইমরানের মাদ্রাসার ছবির মিল দেখে তাকে শনাক্ত করে পরিবারটি।
মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি
চুরির এই প্রমাণ নিয়ে মুখ খোলায় ভুক্তভোগী পরিবারকে চূড়ান্ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদল নেতা ইমরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ছবি আইনের আওতায় আনলে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে আবারও পা ভেঙে দেওয়া হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে জয়নাল আবেদীন ও তার দুই ছেলেকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা এলাকায় এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইমরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
লতাচাপলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল শিকদার জানান, “আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আমি আমাদের থানা সভাপতিকে অবহিত করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”










