পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন-কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে। স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই আলোচনা—এই সম্ভাবনাময় উপকূলীয় জনপদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার, চায়ের দোকান ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। গণমাধ্যমেও তাঁকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অঞ্চলের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসনটি বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এই জনপদের মূল শক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে
পায়রা সমুদ্রবন্দর দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখানে সচল রয়েছে ২ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা রয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটিসহ একাধিক কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) এলাকা।
সাগরকন্য কুয়াকাটাকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কৃষি, মৎস্য এবং পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে এবং চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবিএম মোশাররফ হোসেনের মতো অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতার মন্ত্রিত্ব অত্যন্ত জরুরি।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন দীর্ঘ ৪৬ বছর পর এবিএম মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে এই আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যন্ত দল আজ সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সংসদ নির্বাচনের পরও তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে এলাকায় পূর্ণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াই এই জনপদকে তিনি শান্তির জনপদে পরিণত করেছেন। এখন আমাদের প্রাণের দাবি, তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা পর্যটনশিল্প উন্নয়ন, মহিপুর আলীপুর দ্বিতীয় মৎস্য বন্দর এবং দক্ষিণ জনপদকে উন্নয়নের লক্ষ্যে এবিএম মোশারফ হোসেনকে মন্ত্রী হিসেবে খুবই প্রয়োজন। তাই দক্ষিণ জনপদের প্রাণের দাবি এবিএম মোশারফ হোসেনকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাব ও টোয়াক এর সভাপতিরুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সৈকতকে একটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করতে এবং পর্যটনভিত্তিক জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
-
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর সাধারণ মানুষ এখন সুশাসন, শান্তি ও দৃশ্যমান উন্নয়নের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয়দের জোরালো প্রত্যাশা, সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই কৌশলগত ও সম্ভাবনাময় জনপদের স্বার্থ এবং সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করবে।











