দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে মহিপুর হয়ে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় সড়ক জুরে হাজারো মানুষ মানবচেইন গড়ে তোলেন। এতে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
এতে কুয়াকাটা মহিপুরের নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা এবং দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য বন্দর মহিপুর আলীপুরের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক। সড়কটিতে যানবাহনের চাপ দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
বক্তারা আরো বলেন দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে
ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ এবং ভাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন।
পর্যটনশিল্প বিকাশে ‘কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন এবং ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।
পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা।
দুর্যোগ মোকাবিলা: নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন দেশের দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে উন্নয়নের মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে এ অঞ্চল জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।”
তারা আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সবশেষে, আসন্ন জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে এবং উত্থাপিত ৯ দফা দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।











