পটুয়াখালীর লতাচাপলী ইউনিয়ন এর আমখোলা গ্রামে ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। লতাচাপলী ইউনিয়নের দিয়ারআমখোলা পাড়া জামে মসজিদের ইমাম বেল্লাল হোসেনের (২৮) বিরুদ্ধে মক্তবে পড়তে আসা শিশুদের ওপর ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে অভিযুক্ত ইমামকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইমাম বেল্লাল দীর্ঘদিন ধরে মক্তবে পড়তে আসা কোমলমতি শিশুদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিশুদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ইমামের অপকর্মের প্রমাণ পেতে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওৎ পেতে ছিলেন। অবশেষে শনিবার সকালে হাতেনাতে ধরা পড়লে জনরোষের মুখে পড়েন তিনি।
খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত ইমামকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমান জানান, “ভুক্তভোগী এক শিশুর অভিভাবক বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার খবরে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, যিনি শিশুদের নৈতিকতা শেখানোর দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই তাদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, যা কোনোভাবেই ক্ষমার অযোগ্য। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম জানান, “অভিযুক্ত বেল্লাল হোসেন বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এইমাত্র পাওয়াঃ
আজকের শিরোনামঃ
মহিপুরে মক্তবে শিশুদের যৌন নির্যাতন:গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিল এলাকাবাসী।
জনপ্রিয় সংবাদ










